আন্দার বাহার
এক ডেক তাস, একটা জোকার, আর বাজি মাত্র দুইটা। জোকার বাদ দিলে ডেকে থাকে ৫১টা তাস, মেলার মতো ৩টা — ওখান থেকেই দুই দিকের হিসাব বের হয়, কারও কথা শোনার দরকার নেই।
রাকিব হাসান · সম্পাদক · প্রকাশিত
আপডেট ১৪ অক্টোবর ২০২৬বাজি মাত্র দুইটাআন্দারের ঘর ২৬, বাহারের ২৫
আন্দার বাহারে শেখার মতো কিছু নেই — নিয়ম তিন লাইনের। এক ডেক তাস থেকে একটা তাস খুলে টেবিলে রাখা হয়, ওটাই জোকার। তারপর তাস পড়ে একবার আন্দারে, একবার বাহারে। যে দিকে আগে জোকারের নম্বরের তাস পড়ে, সেই দিক জেতে।
বাজিও মাত্র দুইটা, তৃতীয় কিছু নেই। আর ঠিক সেজন্যই আন্দার বাহারের পুরো হিসাব করা যায়: সিদ্ধান্ত একটা, আর তার পিছনে দুইটা সংখ্যা।
উপরে জোকার ৭, আর আন্দারের তৃতীয় তাসেই সেই নম্বর মিলে গেছে — হাত ওখানেই শেষ। বাহারে তখনো দুইটা তাস, কিন্তু ওটা আর গোনায় ধরা হয় না।
আন্দার বাহারে কোন দিক বেশি জেতে, আর কেন
জোকার বাদ দিলে ডেকে থাকে ৫১টা তাস, আর তার মধ্যে জোকারের নম্বরের বাকি ৩টা। তাস পড়ে একবার এদিকে একবার ওদিকে, তাই আন্দার পায় বিজোড় ঘরগুলো — প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম — মোট ২৬টা, আর বাহার জোড় ঘরগুলো, ২৫টা।
আন্দারের ভাগ বের করতে ২৬-কে ৫১ দিয়ে ভাগ করলে আসে ৫০.৯৮ শতাংশ — প্রায় ঠিক, কিন্তু পুরোপুরি নয়। আসল সংখ্যা একটু বেশি, ৫১.৫০০৬ শতাংশ, আর কারণটা সোজা: প্রথম মিল বেশিরভাগ সময় শুরুর দিকেই পড়ে, আর শুরুর ঘরগুলো আন্দারের। মেলার মতো তিনটা তাস ৫১টা ঘরে কতভাবে বসতে পারে — সেটা গুনেই এই সংখ্যা বের হয়, আর দুই দিকের যোগফল ঠিক ১০০ হয় বলেই বোঝা যায় হিসাবে ফাঁক নেই।
দুই দিক পাশাপাশি: কতবার জেতে, কত দেয়, আর ক্যাসিনোর কত থাকে
| দিক | জেতার হার | কত দেয় | হাউস এজ | মন্তব্য |
| আন্দার | ৫১.৫০ শতাংশ | বাজির ০.৯ গুণ | ২.১৫ শতাংশ | প্রথম তাস এই দিকেই পড়ে |
| বাহার | ৪৮.৫০ শতাংশ | সমান টাকা (১:১) | ৩.০০ শতাংশ | দ্বিতীয় তাস থেকে শুরু |
শেষ কলামটা পড়ার নিয়ম একটাই: যত কম, তত ভালো। ১০০ টাকার বাজিতে ২.১৫ মানে গড়ে প্রায় সোয়া দুই টাকা ক্যাসিনোর থাকে, ৩.০০ মানে তিন টাকা।
আন্দার বাহারে যেখানে সবাই উল্টো বোঝে
যে দিক বেশি জেতে, সে টাকা কম দেয় — বাজির ০.৯ গুণ, অন্য দিকে সমান টাকা। আর এখানেই সবচেয়ে চেনা ভুল: কম রেট দেখে মানুষ ভাবে ওটাই ফাঁদ, আর যায় উল্টো দিকে।
ছকের শেষ কলাম উল্টো কথা বলে। আন্দারেই ক্যাসিনোর কম থাকে — ২.১৫ শতাংশ, বাহারে ৩.০০ শতাংশ। মানে যে দিক বেশি জেতে, সেখানেই লস কম, আর কম রেট ওই বেশি জেতারই দাম।
টাকায় এটা কত? ৩,০০০ টাকা নিয়ে ১০০ টাকা-য় ৩০টা হাত খেললে আন্দার আর বাহারের ফারাক দাঁড়ায় ২৬ টাকা — এক কাপ চায়ের দামের মতো, বড় কিছু নয়।
কিন্তু আন্দার বাহারে আসল কথা অন্যটা: এই ফারাকটা পেতে আপনার কিছুই করতে হয় না। নতুন কিছু শিখতে হয় না, বেশি টাকা লাগে না, কৌশল লাগে না — স্ক্রিনে অন্য ঘরটায় চাপ দিতে হয়, ব্যস। যত বেশি হাত খেলবেন, তত জমবে, আর এর জন্য বাড়তি এক টাকাও লাগে না।
বাজি মাত্র দুইটা, আর লস কম কোনটায় সেটা জানা — আন্দারে হাউস এজ ২.১৫ শতাংশ, লাইভ ডিলারের টেবিলেই
যা আন্দার বাহারে কাজ করে না
আগের হাত গোনা। প্রতি হাতের আগে ডেক নতুন করে মেশানো হয়, তাই ছকের দুইটা সংখ্যা প্রতিবার হুবহু একই। টানা পাঁচবার এক দিকে গেলেও ছয় নম্বর হাতে হিসাব এক চুলও বদলায় না।
“এবার উল্টো দিকের পালা” ধরে নেওয়া। তাস আগের হাতের কথা মনে রাখে না, আর টেবিলের স্ক্রিনে আগের ফলাফল দেখানো থাকে ঠিক সেজন্যই — মানুষ প্যাটার্ন খুঁজতে শুরু করে, আর প্যাটার্ন ওখানে নেই।
বাজি দ্বিগুণ করে পুষিয়ে নেওয়া। এটা ছকের একটা সংখ্যাও বদলায় না, শুধু টাকা আরও তাড়াতাড়ি শেষ করে — হারের পর দ্বিগুণ করলে পরের হাতে তাস মেলার হিসাব আগের মতোই থাকে, আর বাজি ততক্ষণে চার গুণ।
দুইটাই বাজি, সিদ্ধান্ত একটা — সস্তা দিকটা আগেই জানা
বাংলাদেশ থেকে কোথায়
লাইভ ক্যাসিনোর টেবিল গেমের তালিকায় এই খেলা আলাদা নামেই থাকে — JeetWin-এর সেই তালিকায় আন্দার বাহার তিন পাত্তি আর ড্রাগন টাইগারের পাশে। আলাদা অ্যাপ লাগে না, ব্রাউজার থেকেই চলে।
টাকার দিকটা চেনা: অ্যাকাউন্টের হিসাব চলে টাকায়, বিকাশ, নগদ আর রকেটে জমা আর তোলা যায়, আর জেতা টাকা আসে আপনার নিজের নম্বরেই।
আর বসার আগে একটাই জিনিস দেখে নেওয়ার মতো: রেট। সংখ্যাটা লেখা থাকে টেবিলের নামের পাশে, বাজির ঘরের ঠিক উপরে — আর বিস্তারিত থাকে “নিয়ম” বা “i” বাটনের ভিতরে, টাকা রাখার আগেই খোলা যায়। যদি ০.৯-এর বদলে কম লেখা থাকে, তাহলে উপরের ২.১৫ শতাংশ বেড়ে যায়; অন্য গেমে কত ফেরত আসে সেই ছকটা পাশের পাতায়।
সাধারণ প্রশ্ন
২৬-কে ৫১ দিয়ে ভাগ করলেই তো হয়, নাকি?
প্রায় ঠিক, কিন্তু পুরোপুরি নয়। ২৬-কে ৫১ দিয়ে ভাগ করলে আসে ৫০.৯৮ শতাংশ, আর আসল সংখ্যা ৫১.৫০০৬ শতাংশ — একটু বেশি। কারণ ঘর গোনাই যথেষ্ট নয়: প্রথম মিল শুরুর দিকে পড়ার সম্ভাবনা বেশি, আর শুরুর ঘরগুলো আন্দারের। তাই আন্দারের ভাগ ঘরের অনুপাতের চেয়ে একটু বড় হয়।
কোন দিক বেশি জেতে?
আন্দার জেতে প্রতি ১০০ হাতে ৫১-৫২ বার, বাহার ৪৮-৪৯ বার। কারণটা ভাগ্য নয়, হিসাব: জোকার বাদ দিলে ডেকে ৫১টা তাস, মেলার মতো ৩টা, আর প্রথম দিক পায় বিজোড় ঘরগুলো — ৫১-এর মধ্যে ২৬টা, দ্বিতীয়টা ২৫টা।
তাহলে সবসময় আন্দারে ধরলেই হয়?
হিসাবে আন্দারেই লস কম — হাউস এজ ২.১৫ শতাংশ, বাহারে ৩.০০ শতাংশ। কিন্তু এর মানে “সবসময় জিতবেন” না: প্রতি দশ হাতে পাঁচটার কাছাকাছি উল্টো দিকেই যায়। লস কম মানে অনেক হাত মিলিয়ে টাকা কম যায়, হাত ধরে ধরে নয়।
আন্দারে টাকা কম দেয় কেন?
কারণ সে বেশি জেতে, আর টেবিল সেটা রেট কমিয়ে পুষিয়ে নেয়: বাজির ০.৯ গুণ, অন্য দিকে সমান টাকা। কম রেট দেখে অনেকে ভাবে ওটাই ফাঁদ — আসলে উল্টো, ওই কম রেটের দিকেই লস কম।
আগের হাত গুনে পরেরটা বলা যায়?
না। প্রতি হাতের আগে ডেক নতুন করে মেশানো হয়, তাই উপরের দুইটা সংখ্যা প্রতিবার হুবহু একই থাকে। টানা পাঁচবার এক দিকে গেলেও ছয় নম্বর হাতে হিসাব বদলায় না — তাস আগের হাতের কথা মনে রাখে না।
বাংলাদেশ থেকে খেলা যায়?
যায় — লাইভ ক্যাসিনোর টেবিল গেমের তালিকায় আন্দার বাহার আলাদা নামে থাকে, তিন পাত্তির পাশে। অ্যাকাউন্টের হিসাব টাকায়, আর বিকাশ-নগদে জমা আর তোলা যায়।