হিসাবbd

GreySnow Poker

রুমটা বন্ধ, আর ওদের সাইটে এখন শুধু একটা লাইন — পুরোনো খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ। তাই এই পাতার কাজ দুইটা: কী ছিল সেটা পরিষ্কার বলা, আর ওদের অদ্ভুত ফি-মডেল থেকে যে হিসাবটা যেকোনো রুম বাছার সময় কাজে লাগে, সেটা দেখানো।

· সম্পাদক · প্রকাশিত

আপডেট ১৭ অক্টোবর ২০২৬রুম বন্ধফি উঠে যাওয়ার সময় ৩%

GreySnow Poker আর চলে না। রুম বন্ধ, অপারেটর কোম্পানি আর সক্রিয় নয়, আর নামটা সার্চ করলে যেসব “বোনাস” বা “ডাউনলোড” পাতা পাবেন, সেগুলো পুরোনো পাতা — ওগুলোয় ক্লিক করে লাভ নেই।

রুমটা চলত আইল অফ ম্যানের লাইসেন্সে, অফিস ছিল ডগলাসে। চালু হয় ২০১৭-১৮ সালে, চালাত Ioway Internet Gaming Enterprises। টেবিলে কতটা ভিড় হত আর লিমিট কেমন ছিল — এই তথ্য আমাদের হাতে নেই, লবি আর খোলে না, আর আমরা অনুমান লিখি না। ওরা নিজেরা প্রকাশ করেছিল একটাই জিনিস — ফি-মডেল। আর ওটাই সবচেয়ে কাজের।

ফি প্রতি হাতে নয়, উঠে যাওয়ার সময়

প্রায় সব পোকার রুম প্রতি হাতেই টাকা কাটে — পটের একটা ভাগ। গ্রে স্নোর মডেল ছিল উল্টো: প্রতি হাতে কিছুই কাটত না। তার বদলে টেবিল ছাড়ার সময় ৩ শতাংশ কাটত — যত টাকা নিয়ে উঠছেন, সেই টাকার উপর। আর বসার সময় স্টাকের ১ শতাংশের সমান লয়্যালটি পয়েন্ট জমা হত।

গ্রে স্নোর টেবিলে টাকার পথ: কাটা ছিল শুধু শেষ ধাপেটেবিলে বসাস্টাকের ১% পয়েন্টেযত হাত খেলবেনএখানে কোনো কাটা নেইটেবিল ছাড়া৩% সার্ভিস ফি২,০০০ টাকা নিয়ে উঠলে ফি ৬০ টাকা
মাঝের ধাপে কোনো সংখ্যা নেই, আর সেটাই পুরো মডেল: কত হাত খেললেন তার উপর ফি নির্ভর করত না, আর মডেলটা ওইটুকুই। ২,০০০ টাকা টাকার স্টাক নিয়ে বসলে জমা হত ২০ টাকা-র সমান পয়েন্ট — টাকা নয়, পয়েন্ট।

অর্থাৎ ফি ঠিক করত আপনার স্টাক, আর হাতের সংখ্যায় কিছু বদলাত না। ২,০০০ টাকা নিয়ে উঠলে ৬০ টাকা — দশ হাত খেলে উঠলেও, হাজার হাত খেলেও।

একই ফি, খরচের ফারাক একশো গুণ

২,০০০ টাকা স্টাকে ৩ শতাংশ ফি, আর প্রতি একশো হাতে খরচ
কত হাত খেলেছেনমোট ফিপ্রতি একশো হাতে খরচ
১০৬০ টাকা৬০০ টাকা
১০০৬০ টাকা৬০ টাকা
১,০০০৬০ টাকা৬ টাকা
প্রতি একশো হাতে খরচ: যত বেশি হাত খেলবেন, তত কম১০ হাত খেলে৬০০ টাকা১০০ হাত খেলে৬০ টাকা১,০০০ হাত খেলে৬ টাকা

মডেলটা সুবিধা দিত লম্বা সেশনের খেলোয়াড়কে, আর পকেট কাটত দুই হাত খেলে উঠে যাওয়া লোকের — যারা দিনে হাজার হাত খেলে, তাদের জন্য বানানো, আর ওরা সেটা লুকাত না।

এখান থেকে যা আজও কাজে লাগে: রুম কোথায় টাকা কাটে, সেটা জানলেই বোঝা যায় রুমটা কার জন্য বানানো। প্রতি হাতের রেকে সুবিধা পান অল্প হাত খেলা খেলোয়াড়, আর উঠে যাওয়ার ফিতে সুবিধা লম্বা সেশনের। টুর্নামেন্টের এন্ট্রি-ফি এই দুইটার কোনোটার মতো না — ওটা একেবারে আলাদা হিসাব।

জমার পথ: বাংলাদেশ থেকে ঢোকার উপায় ছিল না

গ্রে স্নোতে জমা আর তোলা চলত Visa, MasterCard, Skrill, Neteller, MuchBetter দিয়ে — পাঁচটাই বিদেশি কার্ড বা ওয়ালেট। বিকাশ, নগদ বা রকেট ওই তালিকায় ছিল না, আর ডলার-ইউরোর অ্যাকাউন্টও সবার থাকে না।

মানে রুমটা বন্ধ হওয়ার আগেও বাংলাদেশ থেকে ওখানে ঢোকার বাস্তব কোনো পথই ছিল না। এটা গ্রে স্নোর দোষ নয় — রুমটা বানানো হয়েছিল অন্য বাজারের জন্য। কিন্তু নামটা সার্চ করে যারা আসেন, তাদের জন্য বন্ধ হওয়ার খবরের আগে এটাই জানা দরকার।

বন্ধ রুমের আরেকটা খরচ এখানেই: অ্যাকাউন্টে টাকা থেকে গেলে ফেরত চাইতে হয় লাইসেন্স দেওয়া দেশের নিয়মে, সময়সীমার মধ্যে — বাইরে থেকে সেটা কঠিন।

এখন বাংলাদেশ থেকে ক্যাশ পোকার: সোজা উত্তর

এই নাম লিখে যারা আসেন, তাদের আসল প্রশ্ন “তাহলে এখন কোথায়” — আর উত্তরের একটা দিক ভালো, আরেকটা দিক নয়।

যা নেই: টাকার অ্যাকাউন্টে আর বিকাশে চলে এমন ক্যাশ রুম — যেখানে আপনি অন্য মানুষের বিরুদ্ধে খেলেন, নিজের টেবিল আর লিমিট বেছে নেন। এমন রুম আমরা খুঁজে পাইনি, তাই নাম দেখাচ্ছি না। আন্তর্জাতিক রুমগুলো কার্ড আর বিদেশি ওয়ালেট নেয়, ঠিক গ্রে স্নোর মতোই।

আর একটা পথ আছে, আর সেটা লুকিয়ে রাখার মতো কিছু না: ক্রিপ্টো। আন্তর্জাতিক ক্যাশ রুমে ইউএসডিটি দিয়ে ঢোকা যায়, আর ওটা বিকাশের বদলে নয় — ওটা বিকাশের পরে: আগে টাকা দিয়ে ইউএসডিটি কিনতে হয়, তারপর সেটা রুমে পাঠাতে হয়, আর ফেরার পথে উল্টোটা। দুইটা বাড়তি ধাপ, দুইবার রেটের ধাক্কা, আর টাকার হিসাব সেখানেই শেষ — ভিতরে সব ডলারে। সংখ্যা আমরা দিচ্ছি না, কারণ ওই রেট আর ফি আমরা যাচাই করিনি; কিন্তু পথটা আছে, আর ক্যাশ টেবিল ছাড়া যার চলবে না, তার জন্য এটাই একমাত্র পথ।

যা টাকায় চলে: ডিলারের বিরুদ্ধে পোকার — ক্যাশ রুম নয়, টেবিল — আর জমা বিকাশে। প্রতিপক্ষ তখন ক্যাসিনো, মানুষ নয় — ব্লাফ আর টেবিল বাছাই বাদ পড়ে, আর তার বদলে থাকে প্রকাশ করা পেআউট ছক। আমাদের নিজের মিলিয়ে দেখা অনুযায়ী লাইভ ডিলারের টেবিল সবচেয়ে বেশি JeetWin-এ, আর ঠিক সেখানেই পোকারের টেবিল খুঁজতে হয় — টেবিলের সংখ্যা ওরা প্রকাশ করে না, তাই আমরাও সংখ্যা লিখছি না। আর র‍্যাঙ্কিংয়ের উপরের নামগুলো ক্রিকেট আর স্লটের জোরে উপরে, ডিলারের টেবিলের জোরে নয়।

মেশিনের বিরুদ্ধে খেলতে চাইলে ভিডিও পোকারে ফেরতের হার জানানো থাকে — ৯/৬ ছকে ৯৯.৫৪ শতাংশ। এই সংখ্যাটা রেকের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়, শুধু প্রতিপক্ষ নেই।

গ্রে স্নোতে বিকাশ কখনোই ছিল না। ডিলারের বিরুদ্ধে পোকারের টেবিল টাকায় চলে, আর JeetWin-এ লাইভ টেবিল এই বাজারে সবচেয়ে বেশি

বন্ধ রুম খুঁজতে গিয়ে যেগুলো করে লাভ নেই

একই নামের নতুন সাইট খোঁজা। বন্ধ ব্র্যান্ডের নাম কেউ তুলে নিয়ে নতুন সাইটে বসাতে পারে, আর তার সঙ্গে পুরোনো লাইসেন্স বা পুরোনো মালিকের কোনো সম্পর্ক থাকে না — নাম এক, কিন্তু পিছনের লোক আর এক নয়।

পুরোনো রিভিউর বোতাম। বন্ধ রুমের নামের পাতাগুলো বছরের পর বছর সার্চে পড়ে থাকে, আর তাদের “বোনাস” বোতাম এখন অন্য কোথাও নিয়ে যায়, প্রায়ই অন্য ব্র্যান্ডে।

যে টেবিলে বিকাশ চলে — ডিলারের বিরুদ্ধে, অ্যাকাউন্ট টাকায়

সাধারণ প্রশ্ন

GreySnow Poker এখনো চলে?

না। রুম বন্ধ, অপারেটর কোম্পানিও আর সক্রিয় নয়। তাই নামটা সার্চ করলে যেসব “বোনাস” বা “ডাউনলোড” পাতা পাবেন, সেগুলো পুরোনো — ওগুলোয় ক্লিক করে লাভ নেই।

ফি মডেলটা আসলে কী ছিল?

প্রতি হাতের রেক ছিল না। টেবিল ছাড়ার সময় ৩ শতাংশ কাটত — আপনি যত টাকা নিয়ে উঠছেন, সেই টাকার উপর। মানে ফি ঠিক করত আপনার স্টাক, হাতের সংখ্যা নয়: ২,০০০ টাকা নিয়ে উঠলে ৬০ টাকা, দশ হাত খেললেও, হাজার হাত খেললেও।

ওদের লিমিট আর টেবিলের ভিড় কেমন ছিল?

এই দুইটা জিনিসের তথ্য আমাদের হাতে নেই, আর অনুমান লিখব না। রুম বন্ধ হওয়ার পর লবি দেখার উপায়ও নেই। যাচাই করা যায় শুধু ওদের নিজের প্রকাশ করা ফি-মডেল — উপরের হিসাবটা পুরোটাই সেখান থেকে।

বাংলাদেশ থেকে ওখানে খেলা যেত?

আসলে না, আর কারণটা বন্ধ হওয়া নয়। জমার পথ ছিল Visa, MasterCard, Skrill — আর বিদেশি আরও দুইটা ওয়ালেট — বিকাশ, নগদ বা রকেট কোনোটাই ছিল না।

ফোরামে ওদের পেমেন্টের এত প্রশংসা হত কেন?

প্রশংসাটা গতি নিয়ে, আর ঝামেলা না থাকা নিয়ে — আর সেটা আমরা যাচাই করতে পারি না — রুম বন্ধ, আর তোলার সময় কত লাগত সেটা এখন কারো কাছে পরীক্ষা করার উপায় নেই। ওরা নিজেরা লিখে রেখেছিল একটাই জিনিস — ফি-র নিয়ম, আর সেটাই আমরা উপরে সংখ্যায় ভেঙে দেখিয়েছি। বাকিটা স্মৃতি, আর কোথায় টাকা রাখবেন সেটা স্মৃতি দিয়ে ঠিক করা যায় না।

ক্রিপ্টো দিয়ে আন্তর্জাতিক রুমে খেলা কি সমাধান?

পথ হিসেবে চলে, সমাধান হিসেবে নয়। ইউএসডিটি কিনতে হয় টাকা দিয়েই, তারপর পাঠাতে হয়, আর ফেরার পথে আবার উল্টো — দুইবার রেটের ধাক্কা আর দুইবার অপেক্ষা, আর ভিতরে পুরো হিসাব ডলারে। ক্যাশ রুম ছাড়া চলবে না এমন হলে এটাই পথ; কিন্তু “বিকাশে জমা দিয়ে ক্যাশ রুমে বসা” বলে কিছু নেই।

সম্পর্কিত পাতা

Crazy TimeTeerলটারিTeen PattiTeen Patti Royalসাইন আপ বোনাস
ডিলারের বিরুদ্ধে পোকারক্যাশ রুম নয়, কিন্তু টাকায় চলে আর জমা বিকাশে
খেলুন