Rummy
রামিতে হাতে ১৩টা কার্ড, আর ডিক্লেয়ার দিতে লাগে দুইটা সিকোয়েন্স — একটা অবশ্যই পিওর। এক দানে সবচেয়ে বেশি যেতে পারে ৮০ পয়েন্ট, তার বেশি নয় — তাই টেবিলে বসার আগেই হিসাব করে নেওয়া যায়।
রাকিব হাসান · সম্পাদক · প্রকাশিত
হালনাগাদ ২৪ অক্টোবর ২০২৬হাতে ১৩টা কার্ডএক দানে সর্বোচ্চ ৮০ পয়েন্ট
রামিতে হাতে আসে ১৩টা কার্ড, আর কাজ একটাই: সেগুলো সিকোয়েন্স আর সেটে সাজিয়ে ফেলা। প্রতি চালে একটা কার্ড তোলা, একটা ফেলা — আর যে আগে সাজিয়ে ফেলতে পারে, সে ডিক্লেয়ার দেয়, যাকে টেবিলে “শো” বলে।
এখানেই রামি তিন পাত্তি বা স্লট থেকে আলাদা। হাত আপনাকে দেওয়া হয় না, হাত আপনি নিজে গড়েন — চালে চালে, নিজের সিদ্ধান্তে। তাই এই খেলায় ভুল কার্ড ফেলার দাম আছে, আর সেই দামটা পয়েন্টে মাপা যায়।
আর সবচেয়ে কাজের সংখ্যাটা এই: এক দানে ৮০ পয়েন্টের বেশি যায় না। কার্ড যত খারাপই পড়ুক, নিয়মেই সীমা বাঁধা। অর্থাৎ টেবিলে বসার আগেই জানা যায়, সবচেয়ে বাজে দানে কত যেতে পারে — এই পাতায় সেটাই টাকায় হিসাব করা আছে।
আসল টাকার রামি টেবিল, আসল ডিলার — ১ টাকা রেটে এক দানে সবচেয়ে বড় লোকসান ৮০ টাকা
ডিক্লেয়ার দিতে ঠিক কী কী লাগে
রামির একমাত্র কড়া শর্ত: দুইটা সিকোয়েন্স, আর তার একটা অবশ্যই পিওর। পিওর মানে একই রঙে পরপর তিন বা তার বেশি কার্ড, জোকার ছাড়া। বাকি কার্ড সেটে যায় — একই নম্বর, আলাদা রঙ।
উপরের চার ভাগে কার্ড গুনে ঠিক ১৩টা — ডিক্লেয়ার দেওয়ার সময় সব কার্ড সেট-সিকোয়েন্সে ঢুকতে হবে, একটাও বাইরে থাকতে পারে না। ডানদিকে উল্টো রাখা কার্ডটাই জোকার।
পিওর সিকোয়েন্সটাই পুরো খেলার ভিত, আর নতুনরা সবচেয়ে বেশি ভুল করে ঠিক এখানেই: জোকার দিয়ে সুন্দর সাজানো ১৩টা কার্ড নিয়ে ডিক্লেয়ার দিয়ে দেয়, অথচ পিওর সিকোয়েন্স নেই। নিয়মে সেটা ভুল ডিক্লেয়ার, আর জরিমানা পুরো ৮০ পয়েন্ট — অর্থাৎ ওই দানে সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারত, ঠিক সেটাই।
কোন কার্ডে কত পয়েন্ট
পয়েন্ট গোনা হয় যে হারে, তার হাতে পড়ে থাকা কার্ড থেকে — যেগুলো সাজানো হয়নি। সাজানো কার্ড গোনায় আসে না।
কার্ডের পয়েন্ট, আর জরিমানা কোথা থেকে আসে
| কার্ড | পয়েন্ট | কীভাবে |
| টেক্কা, সাহেব, বিবি, গোলাম | ১০ | চারটাই দশ — কার্ড যত বড়, জরিমানা তত বেশি |
| ২ থেকে ১০ | গায়ে যত লেখা | দশে দশ, সাতে সাত, দুইয়ে দুই |
| জোকার | ০ | হাতে পড়ে থাকলেও পয়েন্ট বাড়ায় না |
যোগফল যা-ই হোক, এক দানে ৮০ পয়েন্টের উপরে ওঠে না — সীমাটা নিয়মেই বাঁধা।
এই ছক থেকেই রামির সবচেয়ে সোজা কৌশল বেরিয়ে আসে: বড় কার্ড একা পড়ে থাকলে আগে ফেলুন। একটা সাহেব একা পড়ে থাকলে ১০ পয়েন্ট, আর একটা দুই পড়ে থাকলে মাত্র ২। ঝুঁকি একই, দাম পাঁচ গুণ বেশি।
হাত আপনি নিজে বানান — এক হাতে ৮০ পয়েন্টের বেশি যায় না
পয়েন্ট কীভাবে টাকা হয়
পয়েন্ট রামিতে টেবিলের রেট লেখা থাকে পয়েন্টে — ১ টাকা পয়েন্ট, ২ টাকা পয়েন্ট, এভাবে। হিসাবটা তিন ধাপে হয়: বাকি সবার পয়েন্ট যোগ হয়, যোগফলকে রেট দিয়ে গুণ করা হয়, তারপর কমিশন বাদ দিয়ে বাকিটা জয়ী পান।
৩,০০০ টাকা হাতে থাকলে কোন রেট কতক্ষণ টানে
| রেট | এক দানে সর্বোচ্চ লোকসান | ড্রপে কত যায় | ৩,০০০ টাকায় কত দান |
| ১ টাকা | ৮০ টাকা | ২০ টাকা | ৩৭ |
| ২ টাকা | ১৬০ টাকা | ৪০ টাকা | ১৮ |
| ৫ টাকা | ৪০০ টাকা | ১০০ টাকা | ৭ |
| ১০ টাকা | ৮০০ টাকা | ২০০ টাকা | ৩ |
শেষ কলামটা সবচেয়ে খারাপ অবস্থার হিসাব: প্রতি দানে পুরো ৮০ পয়েন্ট গেলে কত দান হয়। আসল খেলায় সংখ্যাটা এর চেয়ে অনেক বড়, কারণ ড্রপ দিলে যায় মাত্র ২০।
১ টাকা রেটে ৩,০০০ টাকা নিয়ে বসলে সবচেয়ে বাজে অবস্থাতেও ৩৭ দান খেলা যায়, আর ড্রপ ধরলে সংখ্যাটা চার গুণের বেশি হয়ে যায়। ১০ টাকা রেটে সেই একই ৩,০০০ টাকা টানে মাত্র ৩ দান। রেট বাছাই এখানে কৌশলের চেয়ে বড় সিদ্ধান্ত।
আর অন্য দিকটাও একই হিসাবে পড়া যায়: টেবিলে যত বেশি লোক, যে জেতে তার হাতে তত বেশি আসে, কারণ সবার পয়েন্ট একসঙ্গে যোগ হয়।
যে জেতে সে সর্বোচ্চ কত পায়, টেবিলের লোক অনুযায়ী
| টেবিল | মোট পয়েন্ট | ১ টাকা রেটে | ৫ টাকা রেটে |
| ২ জন | ৮০ | ৮০ টাকা | ৪০০ টাকা |
| ৪ জন | ২৪০ | ২৪০ টাকা | ১,২০০ টাকা |
| ৬ জন | ৪০০ | ৪০০ টাকা | ২,০০০ টাকা |
সংখ্যাগুলো সর্বোচ্চ — সবাই পুরো ৮০ পয়েন্ট নিয়ে আটকে থাকলে। কমিশন এর থেকে বাদ যায়।
এই ছকটা দুই দিক থেকেই পড়তে হবে, আর সেটাই রামির আসল কথা: ছয় জনের টেবিলে একজন ৪০০ টাকা নিয়ে ওঠে মানে বাকি পাঁচ জনের পকেট থেকেই সেটা গেছে। আপনি কোন দিকে থাকবেন, সেটা ঠিক হয় ২০ পয়েন্টের সিদ্ধান্তে — খারাপ কার্ড ছাড়লেন কি টেনে নিলেন।
ড্রপ: রামিতে সবচেয়ে কম দেওয়া চাল
কার্ড দেখে শুরুতেই সরে যাওয়াকে বলে ড্রপ, আর তাতে কত পয়েন্ট যায় সেটা নিয়মে লেখা। প্রথম চালের আগে সরলে ২০ পয়েন্ট, চাল দেওয়া শুরু হওয়ার পরে সরলে ৪০।
তিনটা সংখ্যা পাশে রাখলে কথাটা পরিষ্কার: খারাপ হাতে শুরুতেই সরে গেলে খরচ ২০, আর সেই একই দান শেষ পর্যন্ত টেনে নিলে ৮০। চার গুণ পার্থক্য, আর সেটা কার্ডের ব্যাপার নয় — সিদ্ধান্তের।
নতুন খেলোয়াড় ড্রপ দিতেই চায় না, কারণ সরে যাওয়াটা হারের মতো লাগে। অথচ অনেক দান মিলিয়ে লাভ-ক্ষতি এখানেই ঠিক হয়: যে দশটা খারাপ দান ২০ পয়েন্টে ছেড়ে দেয়, তার খরচ ২০০; যে দশটাই টেনে নেয়, তার ৮০০।
কখন ড্রপ: হাতে পিওর সিকোয়েন্সের কাছাকাছি কিছুই নেই, জোকার নেই, আর বড় কার্ড একা পড়ে আছে অনেক। কখন নয়: পিওর সিকোয়েন্স প্রায় হয়ে গেছে, কারণ তখন বাকি কার্ড মিলে যাওয়ার সুযোগ অনেক বেশি।
নিয়ম শিখতে দশ মিনিট — তারপর টেবিলে বসা, বিকাশ ও নগদে জমা, আর ড্রপে যায় মাত্র ২০ পয়েন্ট
বাংলাদেশ থেকে কোথায় খেলবেন
প্রথমে একটা কথা, যেটা না বললে ভুল বোঝাবুঝি হয়: টেবিলে কয়জন বসে, সেটা জায়গা অনুযায়ী আলাদা। পয়েন্ট রামির বড় টেবিলে ছয় জন পর্যন্ত বসে; ক্যাসিনোর টেবিল গেমে ডিলার থাকে, আর খেলোয়াড় কম। উপরের হিসাবে এতে বদলায় শুধু একটা জিনিস — যে জেতে সে সর্বোচ্চ কত পায়, কারণ কম লোকের পয়েন্ট যোগ হয়। ৮০ পয়েন্টের সীমা, কার্ডের পয়েন্ট আর ড্রপের পয়েন্ট সব জায়গায় একই থাকে।
JeetWin-এর টেবিল গেমের তালিকায় রামির নাম আলাদা করেই লেখা আছে — তিন পাত্তি, আন্দার বাহার আর ড্রাগন টাইগারের পাশে। তাই আলাদা রামি অ্যাপ নামানোর দরকার পড়ে না, আর অ্যাকাউন্ট খোলা যায় টাকাতেই।
টাকা আনা-নেওয়ার পথ চেনা: টাকা জমা আর তোলা, দুইটাই বিকাশ, নগদ আর রকেটে চলে, আর হিসাব আপনার নিজের নম্বরেই বাঁধা থাকে। ভারতীয় রামি অ্যাপে ঠিক এই জায়গাটাই আটকায় — সে কথা রামি অ্যাপের পাতায়।
একটা সংখ্যা আমরা এখানে লিখতে পারি না, আর সেটা লুকিয়ে না রেখে বলে দেওয়াই ঠিক: কমিশনের হার। সেটা টেবিল অনুযায়ী আলাদা আর বাইরে থেকে পড়ার উপায় নেই — লেখা থাকে টেবিলের নামের পাশে বা “নিয়ম” বাটনের ভিতরে, আর টেবিলে বসার আগে ওই এক জায়গাটাই দেখে নেওয়ার মতো। যে টেবিলে সংখ্যাটা একেবারেই নেই, সেটা নিজেই একটা উত্তর।
আর শুরু করার আগে একটাই অভ্যাস কাজে লাগে: প্রথম দশ দান সবচেয়ে ছোট রেটে খেলা। নিয়ম ভালো করে বোঝার আগে রেট বাড়ানোর কারণ নেই, আর ছোট রেটে ভুল ডিক্লেয়ারের জরিমানাও ছোট। অন্য গেমে কত ফেরত আসে, সেই ছকটা পাশে রাখলে পার্থক্যটাও দেখা যায়।
রামির ধরনগুলো এক নজরে
“রামি” একটা নাম, কিন্তু খেলা কয়েকটা, আর নিয়ম মিলিয়ে ফেললে ডিক্লেয়ারের শর্তেই ভুল হয়ে যায়।
ইন্ডিয়ান রামি — ১৩টা কার্ড, দুই ডেক আর জোকার, ছয় জন পর্যন্ত। বাংলাদেশে আর ভারতে “রামি” বললে বেশিরভাগ সময় এটাই বোঝানো হয়, আর এই পাতার সব হিসাব এরই।
পয়েন্ট রামি — একই ১৩টা কার্ড, শুধু টাকার হিসাব প্রতি দানে আলাদা করে হয়। এক দান, এক হিসাব — তাই যেকোনো সময় উঠে পড়া যায়।
জিন রামি — আলাদা খেলা: এক ডেক, ১০টা কার্ড, আর খেলোয়াড় মাত্র দুই জন। এখানে পিওর সিকোয়েন্স লাগে না, বদলে আছে “নক” করা আর হাতে থাকা কার্ডের হিসাব।
তিন পাত্তির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলাও সাধারণ ভুল, অথচ দুই খেলা পুরো উল্টো। Teen Patti-তে তাস শুরুতেই পুরো হাতে আসে আর সিদ্ধান্ত মাত্র দুইটা; রামিতে হাত গড়ে ওঠে চালে চালে, আর সিদ্ধান্ত প্রতি চালেই।
সাধারণ প্রশ্ন
রামিতে সবচেয়ে কম কী থাকলে ডিক্লেয়ার দেওয়া যায়?
দুইটা সিকোয়েন্স, আর তার একটা অবশ্যই পিওর — জোকার ছাড়া পরপর তিন বা তার বেশি কার্ড, একই রঙে। এই একটা শর্ত না মিললে বাকি ১৩টা কার্ড যত সুন্দর সাজানো হোক, ডিক্লেয়ার ভুল ধরা হবে আর পুরো ৮০ পয়েন্ট জরিমানা হবে।
এক দানে সবচেয়ে বেশি কত পয়েন্ট যেতে পারে?
৮০, আর এর বেশি নয়। হাতে ১৩টা ১০ পয়েন্টের কার্ড পড়লেও যোগফল ৮০-তে থেমে যায় — সীমাটা নিয়মেই বাঁধা। এই কারণেই রামিতে এক দানের সবচেয়ে বড় লোকসান আগেই বলা যায়: ১ টাকা রেটে ৮০ টাকা।
ড্রপ মানে কী, আর তাতে কত যায়?
কার্ড দেখে শুরুতেই সরে যাওয়া। প্রথম চালের আগে সরলে ২০ পয়েন্ট, চাল দেওয়া শুরু হওয়ার পরে সরলে ৪০। খারাপ কার্ডে ২০ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া আর শেষ পর্যন্ত টেনে ৮০ পয়েন্ট খাওয়া — এই দুইটার পার্থক্যই রামিতে দক্ষতার আসল মাপ।
জেতার টাকা কীভাবে হিসাব হয়?
তিন ধাপে: বাকি সবার পয়েন্ট যোগ হয়, যোগফলকে রেট দিয়ে গুণ করা হয়, তারপর কমিশন বাদ দিয়ে বাকিটা জয়ী পান। অর্থাৎ প্রতিপক্ষ যত বেশি পয়েন্ট নিয়ে আটকে থাকে, জয়ীর হাতে তত বেশি আসে — আর সেটা দুই পক্ষেই সত্য।
১৩ কার্ডের রামি আর জিন রামি কি একই?
না, দুইটা আলাদা খেলা। ১৩ কার্ডের ইন্ডিয়ান রামিতে দুই ডেক আর জোকার থাকে, খেলোয়াড় ছয় জন পর্যন্ত। জিন রামিতে এক ডেক, ১০টা কার্ড আর খেলোয়াড় মাত্র দুই জন। নিয়ম মিলিয়ে ফেললে ডিক্লেয়ারের শর্তেই ভুল হয়ে যায়।
রামিতে ভাগ্য বেশি না বুদ্ধি বেশি?
গুনে দেখুন: দশটা খারাপ দান ড্রপ দিলে খরচ ২০০ পয়েন্ট, সেই দশটাই শেষ পর্যন্ত টানলে ৮০০। পার্থক্যটা ৬০০ পয়েন্ট, আর তার একটাও কার্ডের দোষ নয় — ওটা পুরোটাই সিদ্ধান্তের। কার্ড ভাগ্যের, কিন্তু বিল আসে সিদ্ধান্তের নামে।
জোকার কয়টা থাকে আর কী কাজে লাগে?
ডেকের ছাপানো জোকার ছাড়া প্রতি দানে একটা কার্ড তুলে সেই নম্বরের সব কার্ড জোকার ধরা হয়, তাই জোকারের সংখ্যা টেবিল অনুযায়ী বদলায়। কাজ একটাই: সেট বা দ্বিতীয় সিকোয়েন্সের ফাঁক ভরা। পিওর সিকোয়েন্সে জোকার বসালে সেটা আর পিওর থাকে না।
বাংলাদেশ থেকে আসল টাকায় রামি খেলা যায়?
যায়। JeetWin-এর টেবিল গেমের তালিকায় রামির নাম আলাদা করেই লেখা আছে, আর অ্যাকাউন্ট খোলা যায় টাকাতেই — টাকা জমা আর তোলা, দুইটাই বিকাশ-নগদে চলে। ভারতীয় রামি অ্যাপের রুপির হিসাবে ঢোকার দরকার পড়ে না।